কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইসলামিক প্রশ্নোওর-২

হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)

প্রঃ রসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ) কবে কোথায় জন্ম গ্রহণ করেন ?
উঃ অধিকাংশের মতে আসহাবুল ফিল-এর ২৫দিন পর ১২ রবিউল আওওয়াল ২০ এপ্রিল ৫৭০ খৃঃ। নতুন গবেষনানুযায়ী এবং সম্ভবত সঠিক তারিখ হলো রবিউল আওওয়াল ২০ এপ্রিল ৫৭১খৃঃ।

প্রঃ হযরত রাসূলে করীম (সাঃ)-এর নাম, কুনিয়াত (পারিবারিক নাম) এবং লকব (উপাধি) লিখুন।
উঃ তাঁর পবিত্র নাম-মুহাম্মদ (সাঃ), কুনিয়াত-আবুল কাসেম (কাসেমের পিতা) এবং লকব্'আমীন' (বিশ্বস্ত) এবং 'আস্সাদিক' (সত্যবাদী)

প্রঃ তাঁর (সাঃ) দাদা, পিতা এবং মাতার নাম কি?
উঃ দাদা-হযরত আব্দুল মুত্তালিব, পিতা- হযরত আব্দুল্লাহ্এবং মাতা-হযরত আমিনা বিনতে ওয়াহ্হাব ইবনে আবদে মানাফ।

প্রঃ তাঁর পিতা এবং মাতার কখন মৃত্যু হয়?
উঃ তাঁর পিতা হযরত আব্দুল্লাহ্তাঁর জন্মের ছয় মাস পূর্বে ইন্তেকাল করেন এবং মাতা তাঁর ছয় বছর বয়সের সময় ইন্তেকাল করেন।

প্রঃ তাঁর দুধ মাতার নাম কি?
উঃ হযরত হালিমা সা'দিয়া বিন্তে আবূূ যুরাইব হাওয়াজিন বংশের বনী সা' গোত্রের লোক ছিলেন)

প্রঃ মায়ের মৃত্যুর পর কে শিশু মুহাম্মদ (সাঃ)-কে দেখা-শুনা করেন?
উঃ পিতামহ আব্দুল মুত্তালিব। পরে তিনিও মারা গেলে শিশু মুহাম্মদ (সাঃ)-কে দেখাশুনা করেন তাঁর চাচা আবু তালিব।

প্রঃ আঁ হযরত (সাঃ) কত বছরে, কার সাথে প্রথম বিবাহ সুত্রে আবদ্ধ হন?
উঃ পঁচিশ বৎসর বয়সে হযরত খাদীজাতুল কুবরা বিন্তে খুওয়াইলিদ ইবনে আসাদ (রাঃ)-এর সাথে। তখন হযরত খাদীজা (রাঃ)-এর বয়স ছিল চল্লিশ বছর। হযরত খদীজা (রাঃ)-এর লকব 'তাহিরা'

প্রঃ আঁ হযরত (সাঃ) এর পবিত্র বিবিগণের নাম লিখুন।
উঃ ) হযরত খাদীজাতুল কুব্রা (রাঃ) ) হযরত সউদা বিনতে জাম'য়া (রাঃ) ) হযরত আয়েশা সিদ্দীকা বিন্তে আবূ বকর (রাঃ), ) হযরত হাফসা বিন্তে উমর (রাঃ) ) হযরত জয়নাব বিন্তে খুজায়মা (রাঃ) ) হযরত উম্মি সালমা হিন্দ বিনতে উমাইয়্যা (রাঃ) ) হযরত জয়নব বিন্তে জুহাশ (রাঃ), ) হযরত জুয়ায়রিয়া বিন্তে হারিস (রাঃ) ) হযরত সুফিয়া বিন্তে হুয়ি বিন্আখতাব (রাঃ) ১০) হযরত উম্মি হাবীবা বিন্তে আবূ সুফিয়ান (রাঃ), ১১) উম্মি ই্বরাহীম হযরত মারিয়া কিবতিয়াহ্‌ (রাঃ) এবং ১২) হযরত মায়মুনা বিন্তে হারিস (রাঃ)
এক সঙ্গে চারজনের অধিক (নয়জন পর্যন্ত) স্ত্রী গ্রহণ করা কেবলমাত্র তাঁরই জন্যই বৈধ করা হয়েছিল। বর্ণনা সূরা আহ্যাবের ৫১ আয়াতে আছে। হযরত রসূল করীম (সাঃ)-এর প্রথমা স্ত্রী হযরত খাদীজাতুল কুবরা (রাঃ)-এর বিয়ের সময় বয়স ছিল ৫০ বছর এবং তাঁর বাকী সব বিয়ে হযরত খদীজা (রাঃ)-এর ইন্তেকালের পর হয়েছিল। হযরত আয়েশা (রাঃ)- (সাঃ)-এর একমাত্র কুমারী স্ত্রী ছিলেন আর অন্যান্যরা কেউ ছিলেন বিধবা বা তালাকপ্রাপ্তা।

প্রঃ আঁ হযরত (সাঃ)-এর সাহেবযাদীগণের (কন্যা) নাম লিখুন।
উঃ . হযরত যায়নাব (রাঃ), স্বামী- আবুল আস বিন রাবী; . হযরত রুকাইয়া (রাঃ) . হযরত উম্মে কুলসুম (রাঃ) তাদের বিবাহ আবূ লাহাবের দুই ছেলে উতবা এবং উতিযবার সাথে হয়েছিল। কিন্তু রোখ্সতনার পূর্বেই বিবাহ ভঙ্গ হয়ে যায়। পরে তাদের বিবাহ হযরত উসমান বিন 'ফ্ফান (রাঃ)-এর সাথে সম্পন্ন হয়। একজনের মৃত্যু হলে অপর জনের সাথে। হযরত উসমান (রাঃ)-কে এজন্যে যিন্নরাঈন (দুই নূরের অধিকারী) বলা হয়; . হযরত ফাতিমা যোহরা (রাঃ), স্বামী হযরত আলী বিন আবু তালিব (রাঃ)

প্রঃ তাঁর সাহেবযাদাগণের (পুত্র) নাম কি কি?
উঃ . হযরত কাসেম, . হযরত তাহের, . হযরত তাইয়্যেব (তাঁর আর এক নাম আব্দুল্লাহ্ছিল) . হযরত ইবরাহীম আলায়হিমুস্সালাম।

প্রঃ আঁ হযরত (সাঃ) কত বছর বয়সে নবুওয়তের দাবী করেন।
উঃ চল্লিশ বছর বয়সে।

প্রঃ তাঁর উপর প্রথম ওহী কোথায় নাযিল হয়।
উঃ হেরা পর্বত গুহায়।

প্রঃ পুরুষ, নারী, শিশু, দাস, বাদশাহ্, খৃষ্টান, পার্শী এবং রোমানদের মাঝে কে, কে সর্বপ্রথম তাঁর উপর ঈমান আনয়ন করেন।
উঃ পুরুষদের মাঝে হযরত আবূ বকর (রাঃ), মহিলাদের মাঝে হযরত খাদীজা (রাঃ), বালকদের মাঝে হযরত আলী (রাঃ), দাসদের মাঝে হযরত যায়েদ বিন হারিস্‌ (রাঃ), বাদশাহ্গণের মাঝে হাব্সী বাদশা নাজ্জাশী, খ্রীষ্টানদের মাঝে ওরাকা বিন নাউফাল, পার্শীদের মাঝে হযরত সালমান ফারসী (রাঃ) এবং রোমানদের মাঝে হযরত সোহায়েব রূমী (রাঃ) সর্ব প্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন।

প্রঃ তাঁর রওজা মোবারক কোথায়?
উঃ তিনি (সাঃ) ৬৩২ খ্রীষ্টাব্দ ১০ হিজরী সনের ১২ই রবিউল আউয়াল তারিখে সোমবার ৬৩ বছর বয়সে প্রিয় এবং উত্তম বন্ধুর নিকট গমন করেন। তিনি মদীনায় হযরত আয়েশা (রাঃ)-এর বাস গৃহে সমাহিত হন। আঁ হযরত (সাঃ)-এর জন্ম মৃত্যুর তারিখ নিয়ে ঐতিহাসিকদের মাঝে মতভেদ রয়েছে।

প্রঃ রাসূলে আকরম (সাঃ)-এর মৃত্যুতে হাসান বিন সাবেত (রাঃ) যে শোক্গাঁথা আবৃত্তি করেছিলেন তা লিখুন।
(কুন্তাস্সাওয়াদা লিনাযেরী-ফা'আমীয়া'আলায়কান্নাযেরূ
মান্শায়া বা'দাকা ফালয়ামুত্‌-ফা'আলায়কা কুন্তু উহাযিরূ)
অর্থঃ হে আমার প্রিয় হাবিব (সাঃ), আপনি আমার চোখের মণি ছিলেন। আপনার মৃত্যুতে আমার দৃষ্টি অন্ধ হয়ে গিয়েছে। আপনার পর যে মরে মরুক। আমি তো আপনার মুত্যুকেই ভয় করতাম।

প্রঃ মদীনায় হিজরত করার সময় কোন্ব্যক্তি হুযূর (সাঃ)-এর পশ্চাদ্ধাবন করেছিলো? তাঁর সম্বন্ধে কি ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিলো? তা কবে পূর্ণ হয়েছিল?
উঃ সওর গুহা হতে বের হয়ে হুযূর (সাঃ) এবং হযরত আবূ বকর (রাঃ) যখন মদীনার পথে রওয়ানা হলেন তখন যথেষ্ট পুরস্কারের লোভে সুরাকা বিন মালিক তাঁদের পশ্চাদ্ধাবন করে তাঁদের নিকটবর্তী হলেন হুযূর (সাঃ) তাকে দেখে বললেনঃ "সুরাকা সেই সময় তোমার কী অবস্থা হবে যখন তোমার হাতে কির্সার (পারস্যের সম্রাটের) কংকণ থাকবে?" ভবিষ্যদ্বাণী হযরত উমর (রাঃ)-এর খিলাফতের সময়ে পারস্য বিজয়ের মাধ্যমে পূর্ণতা লাভ করে। পুরুষের স্বর্ণ ব্যবহার যদিও নিষিদ্ধ তবুও মহান ভবিষ্যদ্বাণী, যার মাধ্যমে আল্লাহ্ অস্তিত্বের এবং মুহাম্মদ (সাঃ)-এর সত্যতা ইসলামের সত্যতার প্রমাণ পাওয়া যায়, এর পূরণার্থে হযরত উমর (রাঃ) সুরাকাকে স্বর্ণের কংকণ পরিধান করান।

প্রঃ হিজরতের পর আঁ হযরত (সাঃ) সর্বপ্রথম কোন্মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন?
উঃ মসজিদে কুবা। এটা মদীনা হতে দুই বা আড়াই মাইলের ব্যবধানে অবস্থিত। স্থানে কয়েকজন আনসারের স্বগোত্রীয় লোক বসবাস করত। আঁ হযরত (সাঃ) মক্কা হতে হিজরতের পর স্থানে ১০/১২ দিন অবস্থান করে পরে মদীনায় যান।

প্রঃ আঁ হযরত (সাঃ)-এর চরিত্র সম্বন্ধে আয়েশা (রাঃ) কি বলেছেন?
উঃ (কানা খুলুকুহূ কুল্লুহূল কুরআন)
অর্থঃ তাঁর চরিত্র ছিল সম্পূর্ণ কুরআন (বুখারী আবূ দাউদ)

প্রঃ ওরাকা বিন নাওফাল কে?
উঃ তিনি ছিলেন হযরত খদীজা (রাঃ)-এর চাচাতো ভাই এবং খৃষ্টান পন্ডিত। যখন আঁ হযরত (সাঃ) নিজের প্রথম ওহী লাভের অভিজ্ঞতা ওরাকা বিন নাওফালের কাছে বর্ণনা করেন, তখন তিনি বলেছিলেন, 'আমি নিশ্চিত যে, আপনার ওপর সেই ফিরিশ্তাই নাযিল হয়েছে, যে মূসা (আঃ)-এর উপর নাযিল হয়েছিল। আমি যদি সেদিন জীবিত থেকে আপনাকে সাহায্য করতে পারতাম যেদিন আপনার জাতি আপনাকে বিতাড়িত করবে।'
 
প্রঃ আকাবার শপথ কি?
উঃ আঁ হযরত (সাঃ) মক্কায় থাকাকালে মদীনা হতে নও-মুসলিমদের একটি দল একবার হজ্জের সময়ে আকাবার উপত্যকায় আঁ হযরত (সাঃ)-এর সাথে সাক্ষাৎ করে। সাক্ষাতে তারা শপথ করেন যে, আঁ হযরত (সাঃ) মদীনায় গেলে তারা তাঁর নিরাপত্তার জিম্মাদারী থাকবেন। শপথই ইতিহাসে আকাবার শপথ নামে বিখ্যাত।

প্রঃ 'মুয়াখাত' (ভ্রাতৃত্ব বন্ধন ) কি?
উঃ মক্কা হতে হিজরতকারীদের (অর্থাৎ মুহাজিরদের পুনর্বাসনের জন্য আঁ হযরত (সাঃ) নির্দেশ দেন যেন মদীনার প্রতিটি মুসলিম একজন মুহাজিরকে নিজের ভাই হিসেবে বরণ করে নেয়। একেই 'মুয়াখাত' বলে।

প্রঃ মক্কা বিজয়ের পর যখন আঁ হযরত (সাঃ) পবিত্র কা'বার অবৈধ দখলকারী মূর্তিগুলো ভাঙছিলেন তখন তিনি কুরআনের কোন্আয়াত তেলাওয়াত করেছিলেনঃ
উঃ (জায়াল হাক্কু ওয়া যাহাক্বাল বাতিল-ইন্নাল বাতিলা কা-না যাহূকা)
(অর্থঃ সত্য এসেছে, মিথ্যে বিলুপ্ত হয়েছে, নিশ্চয় মিথ্যা বিলীন হওয়ারই যোগ্য (সূরা বনী ইসরাঈলঃ ৮২)

প্রঃ মক্কা বিজয়ের পরে মক্কাবাসীদের উদ্দেশ্যে আঁ হযরত (সাঃ) কী বলেন?
উঃ তিনি (সাঃ) বলেন,
(লা তাসরীবা 'আলায়কুমুল ইয়াওমা)
অর্থঃ আজকের দিনে তোমাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই।

আসহাবে রসূল (সাঃ) [হযরত নবী করীম (সাঃ)-এর সাহাবীগণ]
প্রঃ শায়খীন কাদের বলা হয়? হুযূর (সাঃ)-এর সাথে তাঁদের কী সম্পর্ক ?
উঃ হযরত আবূ বকর (রাঃ) এবং হযরত উমর (রাঃ)-কে শায়খীন বলা হয়। তাঁরা উভয়েই হুযূর (সাঃ)-এর শ্বশুর এবং খলীফা ছিলেন।

প্রঃ সাহাবাদের (রাঃ) প্রথম ইজ্মা' (সর্ববাদীসম্মত মত) কখন কীভাবে সংঘটিত হয়েছিল?
উঃ আঁ হযরত (সাঃ)-এর প্রেম মহব্বতে বিভোর শোকাহত সাহাবীগণ তাঁর ওফাত লাভের বিষয়টি সহজভাবে গ্রহণ করতে পারছিলেন না। হযরত উমর (রাঃ) এতই শোকাভিভূত বেদনায় মুহ্যমান ছিলেন যে, মসজিদে নববীতে কোষমুক্ত তরবারী উত্তোলন করে তিনি ঘোষণা করলেন, যে কেউ বলবে, হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) মৃত্যুবরণ করেছেন, তার শিরচ্ছেদ করা হবে। মসজিদে উপস্থিত অবশিষ্ট সাহাবীরা নিশ্চুপ রইলেন। এমতাবস্থায় হযরত আবূ বকর (রাঃ) মসজিদে প্রবেশ করে মিম্বরে দাঁড়িয়ে তেলাওয়াত করলেন-
(ওয়ামা মুহাম্মাদুন্ইল্লা রাসূল, ক্বাদ্খলাত্মিন্ক্বাবলিহির রুসুল)
অর্থঃ এবং মুহাম্মদ (সাঃ) কেবল একজন রসূল। তাঁর পূর্বেকার সব রসূল অবশ্যই গত হয়েছেন (সূরা আলে ইমরান : ১৪৫)
শব্দার্থ : (ক্বাদ্খালাত্‌-অবশ্যই গত হয়েছেন, মিন -হতে, ক্বাবলিহি-তাঁর পূর্বের )
বিষয়টি সকল সাহাবী বিনা ব্যতিক্রমে মেনে নিয়েছিলেন যে, আঁ হযরত (সাঃ) তাঁর পূর্ববর্তী সকল রসূলের ন্যায় ওফাত (মৃত্যু) লাভ করেছিলেন এবং তাঁর পূর্ববর্তী সকল রসূলও তাঁর ন্যায় গত হয়েছিলেন বা ওফাত লাভ করেছিলেন।

প্রঃ হযরত আবূ বকর (রাঃ)-এর নাম কি?
উঃ হযরত আবূ বকর বিন আবূ কোহাফা (রাঃ) তারঁ আসল নাম ছিল আতীক।

প্রঃ মদীনার প্রথম মুসলমান কে?
উঃ নাজর গোত্রের প্রধান আবূ উসামা আসাদ বিন জুরাকাহ্

প্রঃ আশারাহ্মুবাশ্বারাহ্‌ ( বেহেশতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশ জন) কারা ছিলেন?
উঃ আঁ হযরত (সাঃ) তাঁর দশ জন প্রিয় সাহাবীকে তাঁদের জীবদ্দশায়ই বেহেশ্তের সুসংবাদ প্রদান করেছিলেন। তাঁরা হলেন . হযরত আবূ বকর স্িদ্দীক (রাঃ), . হযরত উমর বিন আল্খাত্তাব (রাঃ), . হযরত উসমান বিন আফ্ফান (রাঃ), . হযরত আলী বিন আবি তালিব (রাঃ), . হযরত আব্দুর রহমান বিন আউফ (রাঃ), . হযরত আবূ উবাইদা (রাঃ), . হযরত সাঈদ বিন যায়িদ (রাঃ), . হযরত তালহা (রাঃ), . হযরত যুবাইর (রাঃ) ১০. হযরত সা' বিন আবি ওক্কাস (রাঃ)

প্রঃ কোন এক মুক্ত ক্রীতদাসের নাম বলুন যাকে হুযূর (সাঃ) সেনাবাহিনীর উচ্চ পদে নিযুক্ত করেছিলেন?
উঃ হযরত যায়েদ বিন হারিস (রাঃ)-কে মূ'তা-এর যুদ্ধে। যুদ্ধে তিনি শহীদ হন।

প্রঃ হযরত উমর (রাঃ) এবং হযরত আলী (রাঃ) কাদের হাতে শহীদ হন?
উঃ হযরত উমর (রাঃ) আবুলুলু নামক এক পার্শী গোলামের হাতে হিজরী ২৩ সালের ২৭ শে যিলহজ্জ তারিখে এবং হযরত আলী (রাঃ) ৪০ হিজরী সনের ২০শে রমযানে আব্দুর রহমান বিন মুলজাম নামক খারিজীর হাতে শাহাদতের মর্যাদা লাভ করেন।

প্রশ্নঃ একজন কাতেবে ওহী মুরতাদ হয়ে গিয়েছিল, তার নাম কি?
উঃ আব্দুল্লাহ্বিন সা' আবী সারাহ্

প্রঃ হযরত উসমান (রাঃ)-এর শাহাদতের ঘটনা বর্ণনা করুন।
উঃ আব্দুল্লাহ্বিন সাবাহ-এর লোকেরা মদীনা অবরোধ করে রাখে এবং হযরত উসমান (রাঃ)-এর উপর আক্রমণ চালায়। তিনি হিজরী ৩৫ সনের ১৮ই যিলহজ্জ মোতাবেক ২০শে মে, ৬৫৬ খৃষ্টাব্দে শাহাদত বরণ করেন, তিনি সে সময়ে কুরআন মজীদ তেলাওয়াত করছিলেন।

প্রঃ সে সব বিশিষ্ট সাহাবীদের নাম লিখুন যাঁরা কাতেবে ওহী বা ওহী-ইলহাম লেখার সৌভাগ্য লাভ করেছিলেন?
উঃ হযরত যায়েদ বিন সাবিত (রাঃ), খালীফ বিন সাঈদ বিন আল্আস (রাঃ), হানযালা বিন আর রবী আল আসদী (রাঃ), আব্দুল্লাহ্বিন আরকম আল্যূহরী (রাঃ), আব্দুলাহ্বিন রওয়াহা (রাঃ), হযরত আবূ বকর (রাঃ), হযরত উমর (রাঃ), হযরত উসমান (রাঃ), হযরত আলী (রাঃ), হযরত যুবায়ের ইবনে আওয়াম (রাঃ), হযরত আব্ব বিন কা' (রাঃ), আব্দুল্লাহ্বিন সা' বিন আবী সরাহ্‌ (রাঃ), হযরত আব্বাস বিন সাঈদ আল্আস (রাঃ), হযরত মুআইকীব বিন আবী ফাতিমা (রাঃ), হযরত সারজিল বিন হাসমাহ (রাঃ) (এরূপ প্রায় ৪০ জন ওহী লেখক ছিলেন) (ফতহুল বারী, খন্ড, পৃষ্ঠা ১৯ অধ্যায় : ওহী রাসূলুল্লাহ্সাল্লাল্লাহু আলায়হে ওয়া সালাম বিষয়)

প্রঃ বদরের যুদ্ধের পূর্ব মুহূর্তে সাহাবীদের আত্মবিলীনতার একটি নমুনা দাও।
উঃ বদরের যুদ্ধের পূর্বে আঁ হযরত (সাঃ) সাহাবাদের নিকট পরামর্শ চাচ্ছিলেন, এমন সময়ে আনসারদের সর্দার হযরত মেকদার বিন আমক্‌ (রাঃ) দাঁড়িয়ে ঘোষণা করেন, "হে আল্লাহ্ রসূল! আমরা মূসা (আঃ)-এর সঙ্গীদের ন্যায় আপনাকে কখনই বলবো না, তুমি আর তোমার প্রভু যাও এবং শত্রুদের সাথে যুদ্ধ করতে থাকো, আমরা এখানেই বসে থাকবো বরং আমরা আপনার ডানে লড়ব, আপনার বামে লড়ব, আপনার সামনে লড়ব, আপনার পিছনে লড়ব। হে আল্লাহ্ রাসূল! যে দুশমন আপনার ক্ষতি সাধন করতে এসেছে তারা আপনাকে স্পর্শ করতে পারবে না যতক্ষণ তারা আমাদের লাশের ওপর দিয়ে না যায়। "

প্রশ্নঃ কীভাবে তালহা (রাঃ)-এর হাত উহুদের যুদ্ধে ক্ষত-বিক্ষত হয়?
উঃ উহুদের যুদ্ধের এক পর্যায়ে যখন হযরত তালহা (রাঃ) লক্ষ্য করলেন যে, শত্রুপক্ষ আঁ হযরত (সঃ)-কে লক্ষ্য করে অজস্র তীর নিক্ষেপ করছে, তখন তিনি তাঁর হাত রসূল (সাঃ)-এর মুখের সামনে তুলে ধরে আড়াল দিলেন। তীরের পর তীর তাঁর হাতে এসে পড়ছিলো আর সেই মহান অনুগত সাহাবী (রাঃ) হাত একটুও সরাচ্ছিলেন না পাছে তীর আঁ হযরত (সাঃ)-এর পবিত্র মুখমন্ডলে আঘাত করে। এভাবে তীরের আঘাতে হযরত তালহা (রাঃ)-এর হাত ক্ষত-বিক্ষত হয়ে যায়।

প্রঃ 'সাইফুল্লাহ্' (আল্লাহ্ তরবারী ) কে?
উঃ আঁ হযরত (সাঃ) বীর মুসলিম সেনানী হযরত খালিদ বিন ওয়ালীদকে 'সাইফুল্লাহ্' উপাধি দিয়েছিলেন।

প্রঃ হযরত আবূ হুরায়রার আসল নাম কি? তাঁকে আবূ হুরায়রা বলা হয় কেন?
উঃ হযরত আবূ হুরায়রার আসল নাম উযায়ের। তিনি একটি বিড়াল পুষতেন এবং বিড়ালটিকে খুব ভালবাসতেন। এজন্য নবী করীম (সাঃ) তাকে আদর করে আবূ হুরায়রা (বিড়ালের পিতা) বলে ডাকতেন।

প্রঃ আস্হাবে সুফ্ফা কারা?
উঃ আঁ হযরত (সাঃ)-এর প্রতি গভীর অনুরাগ ভালোবাসার কারণে যারা বেশির ভাগ সময়ই মসজিদে পড়ে থাকতেন যাতে তারা হুযূর (সাঃ)-এর পবিত্র মুখ নিঃসৃত কোন কথা শোনা থেকে বঞ্চিত না হন, তাঁদেরকেই আস্হাবে সুফ্ফা বলে। 'সূফ্ফা' মসজিদে নব্বীর অংশ বিশেষ। উপরোক্ত সাহাবগণ সুফ্ফায় বসবাস করতেন বিধায় তাদেরকে আস্হাবে সূফ্ফা বলা হতো।


No comments

Powered by Blogger.