কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইসলামিক প্রশ্নোওর-১
|
আল্লাহ্তাআলা
|
প্রঃ আল্লাহ্তা'আলার মৌলিক নাম কি ? এর অর্থ কি ?
উঃ আল্লাহ্তা'আলার মৌলিক নাম 'আল্লাহ্'। এর অর্থ এর মাঝে সকল সৌন্দর্য একীভূত হয়েছে এবং এ নাম যাবতীয় দোষমুক্ত।
প্রঃ কুরআন মজীদে আল্লাহ্তা'আলার কতটি গুণবাচক নাম বর্ণিত হয়েছে ? নামগুলো কি কি ?
উঃ আল্লাহ্তা'আলা যেমন অনন্ত অসীম, তাঁর নাম এবং গুণাবলীও অনন্ত ও অসীম। কুরআন মজীদে আল্লাহ্তা'আলার ১০৪টি গুণবাচক নাম বর্ণিত হয়েছে। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলঃ আর রাহমান (পরম করুণাময় অযাচিত অসীম দানকারী), আর রাহীম (বার বার কৃপাকারী), রাব্ব (প্রভু-প্রতিপালক), আল্ মালিক (সর্বাধিপতি), আল্ কুদ্দুস (অতি পবিত্র), আস সালাম (পরম শান্তিময়), আল্ মু'মিন (পূর্ণ নিরাপত্তাদাতা), আল্ মুহায়মেন্ (সর্বোত্তম রক্ষাকর্তা), আল্ 'আযীয (মহাপরাক্রমশালী), আল্ জাব্বার (প্রবল প্রতিবিধায়ক), আল্ মুতাকাব্বির (অতি গরীয়ান), আল্ খালিক্ (একমাত্র সৃষ্টিকর্তা), আল্ বারী (আদি সুনিপুণ স্রষ্টা), আর রায্যাক (সর্বোত্তম রিয্কদাতা) আল্ 'আলীম (সর্বজ্ঞ), আর রাফী (মর্যাদায় উন্নতি দানকারী) আস্ সামী (সর্বশ্রোতা), আল্ বাসীর (সর্বদ্রষ্টা) আল্ হাকীম (পরম প্রজ্ঞাময় বিচারক), আল্ আদীল (পূর্ণ ন্যায়বিচারক), আল্ লতীফ (সূক্ষ্ণাতি সূক্ষ্ণ জ্ঞাত), আল্ খাবীর (সর্বজ্ঞ), আল্ হাইয়্যুন (চিরঞ্জীবী-জীবনদাতা), আল্ কাইয়্যুম (চিরস্থায়ী-স্থিতিদাতা), আল্ আলিয়্যুন (অতি উচ্চ), আল্ 'আযীম (অতি মহান) ইত্যাদি।
প্রঃ আল্লাহ্তা'আলার অস্তিত্বের একটি দলিল কুরআন করীম হতে পেশ করুন।
উঃ আল্লাহ্তা'আলার রসূলগণ সর্বদা পরিণামে সফলতা লাভ করবেন।
যেমন- কুরআন করীমে বলা হয়েছে-
(কাতাবাল্লাহু লা-আগ্লিবান্না আনা ওয়া রুসুলী)
অর্থঃ আল্লাহ্ লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন (অর্থাৎ আল্লাহ্ এটা সিদ্ধান্ত করেছেন) : "নিশ্চয় আমি এবং আমার রসূলগণই বিজয়ী হবো" (সূরা মুজাদিলা : ২২)।
(কাতাবাল্লাহু-আল্লাহ্ লিপিবদ্ধ করেছেন, আগলিবান্না-বিজয়ী হবো, আনা-আমি, ওয়া-এবং, রুসুলী- আমার রসূলগণ)
|
ইসলাম
|
প্রঃ ইসলাম মানে কী ?
উঃ পরিপূর্ণ আনুগত্য এবং পরিপূর্ণ আত্মসমর্পণ।
প্রঃ ইসলাম কী ?
উঃ খোদার জন্য ফানা বা বিলীন হয়ে যাওয়া, খোদার ইচ্ছায় নিজের ইচ্ছাকে বিলীন করে দেয়ার নামই ইসলাম।
প্রঃ ইসলামের স্তম্ভ কয়টি?
উঃ পাঁচটি। যথাঃ কলেমা, নামায, যাকাত, রোযা ও হজ্জ।
প্রঃ ঈমানের বিষয় কয়টি ও কী কী ?
উঃ ছয়টি। আল্লাহ্র ওপর, তাঁর ফিরিশতাগণের ওপর, তাঁর কিতাবসমূহের ওপর, তাঁর নবীগণের ওপর এবং পরকালের ওপর ঈমান আনা এবং ভাল ও মন্দের নিয়তির ওপর পূর্ণ আস্থা জ্ঞাপন করা।
প্রঃ কত খৃষ্টাব্দে ইসলাম প্রকাশ হলো?
উঃ ৬১০ খৃষ্টাব্দে।
প্রঃ 'মি'রাজ' এবং 'ইসরা' এর পার্থক্য কি?
উঃ মি'রাজ আঁ হযরত (সাঃ)-এর সেই আধ্যাত্মিক সফর যার মাধ্যমে তাঁকে মক্কা হতে আল্লাহ্তাআলার দরবার পর্যন্ত নেয়া হয়েছিল। সূরা নজমে এ সম্বন্ধে বর্ণিত হয়েছে।
'ইসরা' অপর একটি আধ্যাত্মিক সফর যা মক্কা হতে বায়তুল মুকাদ্দাস পর্যন্ত করানো হয়েছিল। সূরা বনী ইসরাঈলে এ সম্বন্ধে বর্ণিত হয়েছে।
প্রঃ বদরের যুদ্ধ কখন সংঘটিত হয়েছিল এবং কতজন অংশ গ্রহণ করেছিলেন?
উঃ হিজরতের দ্বিতীয় সনে কাফির এবং মুসলমানদের মাঝে বদরের প্রান্তরে এ যুদ্ধ সংঘটিত হয় এবং একে 'ইয়াওমুল ফুরকান' বলা হয়, অর্থাৎ- সত্য-মিথ্যার পার্থক্যের দিন। এতে ৩১৩ জন মুসলিম সৈন্য এবং কাফিরদের ১০০০ সৈন্য যোগদান করে। এতদ্সত্ত্বেও কাফিরদের লাঞ্ছনার সাথে পরাজয় বরণ করতে হয়।
প্রঃ আহযাবের যুদ্ধ কখন সংঘটিত হয়? একে খন্দকের যুদ্ধ বলা হয় কেন ?
উঃ পঞ্চম হিজরী সনের শাওয়াল মাস মোতাবেক ৬২৭ খৃষ্টাব্দে এ যুদ্ধ হয়। এ যুদ্ধে আঁ হযরত (সাঃ)-এর বিশিষ্ট সাহাবী হযরত সালমান ফারসীর (রাঃ) পরামর্শক্রমে মদীনার চতুর্দিকে পরিখা খনন করা হয়, তাই এ যুদ্ধ পরিখা বা খন্দকের যুদ্ধ নামেও খ্যাত।
প্রঃ হুদায়বিয়ার সন্ধি বলতে কি বুঝেন?
উঃ ষষ্ঠ হিজরীর যিলকদ মাস মোতাবেক ৬২৮ খৃষ্টাব্দে হুদায়বিয়া নামক স্থানে মুসলমান এবং কাফিরদের একটি সন্ধি হয়। এটাই হুদায়বিয়ার সন্ধি নামে খ্যাত।
প্রঃ কয়েকজন প্রধান ফিরিশ্তার নাম লিখুন।
উঃ জীব্রাঈল, মীকাঈল, ইস্রাফীল এবং আযরাঈল।
|
কুরআন মজীদ
|
প্রঃ কুরআন করীমে কতটি সূরা, কতটি আয়াত, কতটি রুকূ, এবং কতটি শব্দ আছে ?
উঃ ১১৪ টি সূরা, ৫৪০ টি রুকূ, ৬২৩৬ টি আয়াত, ৮৬,৪৩০ টি শব্দ আছে। (কিতাবুল ইতক্বান ফি উলূমিন কুরআন, ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা ৬৬-৭২)
নোটঃ আয়াত এবং শব্দের সংখ্যা নিয়ে মতভেদ আছে। কারণ কেউ কেউ বিসমিল্লাহ্কে আয়াতের সাথে গণনা করেন এবং অন্যরা করেন না। মুলতঃ সর্বসম্মত মত এটাই যে, কুরআন করীম অবিকল তাই রয়েছে যা আঁ হযরত (সাঃ)-এর উপর নাযিল হয়েছিল। আহমদীয়া মুসলিম জামাত বিসমিল্লাহ্সহ আয়াত গণনা করে থাকে। বিসসিল্লাহ্কে আয়াত না ধরলে সূরা ফাতিহায় ৭টি আয়াত পাওয়া যায় না।
প্রঃ কুরআন করীম একত্র ও বিন্যস্ত করা সম্বন্ধে সংক্ষেপে বর্ণনা করুন।
উঃ নবী আকরাম (সাঃ) আল্লাহ্তাআলার ইলহামের মাধ্যমে কুরআন করীম একত্র করেন এবং ওহী ইলহামের মাধ্যমে এটিকে তিনিই সুবিন্যস্ত করেন এবং হেফাযত ও সংরক্ষণের বন্দোবস্ত করেন। এ ছাড়া হযরত আবূ বকর (রাঃ) [যিনি ওহীর লেখক বা কাতেব ছিলেন] লিখিত কুরআন শরীফকে বাঁধিয়ে একটি গ্রন্থের আকারে হেফাযতের ব্যবস্থা করেন। শেষে হযরত উসমান (রাঃ)-এর খিলাফতের সময় উক্ত কুরআনের কতগুলো কপি তৈরী করিয়ে এক একটি বিভিন্ন মুসলমান দেশে প্রেরণ করেন। এভাবে কুরআন করীম দুনিয়ায় বিস্তার লাভ করে। আজও হুবহু সেই কুরআন শরীফই আমাদের কাছে রয়েছে।
প্রঃ কুরআন করীমের হেফাযতের ব্যাপারে আল্লাহ্তাআলা কি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন?
উঃ (ইন্না নাহ্নু নায্যালনায যিক্রা ওয়া ইন্না লাহু লাহাফিযূন)
অর্থঃ নিশ্চই আমরা এ যিক্র (কুরআন) নাযেল করেছি এবং নিশ্চয়ই আমরা এর হেফাযতকারী (সূরা হিজরঃ ১০)।
(ইন্না-নিশ্চয়, নাহনু-আমরা, নায্যালনা-আমরা নাযেল করেছি, ওয়া-এবং, লাহাফিযূন-অবশ্যই হেফাযতকারী)
প্রঃ কুরআন করীমের প্রথম দু'টি সূরা এবং শেষ দু'টি সূরার নাম কি?
উঃ প্রথম দু'টি সূরা হলো সূরা ফাতিহা এবং সূরা বাকারা। শেষ দু'টি হলো সূরা ফালাক এবং সূরা নাস। শেষ সূরা দু'টিকে মুয়াবিযাতাঈনও বলা হয়। কেননা উভয়ই 'কূল আউযু' দিয়ে শুরু করা হয়েছে। এ দুই সূরায় আখেরী যামানার ফেতনাসমূহ হতে রক্ষা পাওয়ার জন্য দোয়া শিক্ষা দেয়া হয়েছে।
প্রঃ কুরআন করীমের সর্বাপেক্ষা বড় এবং সর্বাপেক্ষা ছোট সূরা কি ?
উঃ সূরা বাকারা সবচেয়ে বড় এবং সূরা কাওসার সবচেয়ে ছোট।
প্রঃ বর্তমান বিন্যাস হিসাবে কুরআন করীমের সর্বপ্রথম আদেশ কি ?
(ইয়াআইয়্যুহান্নাসু'বুদূ রাব্বাকুমুল্লাযী খালাক্বাকুম ওয়াল্লাযীনা মিন ক্বাবলিকুম লা'আল্লাকুম তাত্তাকূন)
অর্থ :
হে মানবমন্ডলী! তোমরা তোমাদের সেই প্রভু-প্রতিপালকের ইবাদত করো যিনি তোমাদেরকে এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদের সৃষ্টি করেছেন, যেন তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো (সূরা বাকারা : ২২)।
(ইয়া আইয়্যূহান্নাসু-হে মানবমন্ডলী! আ'বুদু-ইবাদত করো রাব্বাকুম-তোমাদের প্রভু-প্রতিপালক, আল্লাযী-যিনি, খালাক্বা-সৃষ্টি করেছেন, ওয়া-এবং ক্বাবলিকুম-তোমাদের পূর্ববর্তী লোক, লা'আল্লাকুম তাত্তাকূন-যেন তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো )
প্রঃ সূরা বাকারার প্রথম ১৭ আয়াতে কত প্রকারের লোকের কথা উল্লেখ করা হয়েছে লিখুন।
উঃ তিন প্রকার লোকের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যথা মুত্তাকী (খোদা-ভীরু), কাফির (অস্বীকারকারী) এবং মুনাফিক (কপট)
প্রঃ কুরআন করীমে যেসব শরীয়তধারী নবীর উল্লেখ আছে তাঁদের নাম লিখুন।
উঃ হযরত আদম (আঃ), হযরত নূহ (আঃ), হযরত মূসা (আঃ) এবং হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)।
প্রঃ নবীদের নামে নামকরণ করা হয়েছে এমন সব সূরার নাম লিখুন।
উঃ সূরা ইব্রাহীম, সূরা হূদ, সূরা ইউসুফ, সূরা ইউনুস, সূরা নূহ, সূরা মুহাম্মদ এবং সূরা লুকমান।
প্রঃ কুরআন করীমে যেসব নবীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে তাদের নাম লিখুন।
উঃ হযরত আদম (আঃ), হযরত নূহ (আঃ), হযরত ইব্রাহীম (আঃ), হযরত লূত (আঃ), হযরত ইসমাঈল (আঃ), হযরত ইসহাক (আঃ), হযরত ইয়াকূব (আঃ), হযরত ইউসুফ (আঃ), হযরত হূদ (আঃ), হযরত সালেহ (আঃ), হযরত শুয়াইব (আঃ), হযরত মূসা (আঃ) হযরত হারূন (আঃ), হযরত দাউদ (আঃ), হযরত সুলায়মান (আঃ), হযরত ইলিয়াস (আঃ), হযরত ইউনুস (আঃ), হযরত যুলকিফল (আঃ), হযরত আল্ইয়াসা (আঃ), হযরত ইদরীস (আঃ), হযরত আইউব (আঃ), হযরত যাকারিয়্যা (আঃ), হযরত ঈসা (আঃ), হযরত লুকমান (আঃ), হযরত উযায়ির (আঃ), হযরত যুলকারনাইন (আঃ), হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এবং শেষ যুগে আগমনকারী উম্মতি নবী হযরত আহমদ (আঃ) সর্বমোট ২৮ জন।
প্রঃ কুরআন করীমে কোন সাহাবীর নামের উল্লেখ রয়েছে ?
উঃ হযরত যায়েদ বিন হারিস (রাঃ)-এর নাম।
প্রঃ কুরআন করীমের কোন সূরার প্রথমে 'বিসমিল্লাহ্' নেই এবং কেন?
উঃ সূরা 'তওবা' এর প্রথমে 'বিসমিল্লাহ্' নেই। কেননা এটা সূরা আনফালের অংশবিশেষ।
প্রঃ কুরআন করীমের কোন সূরায় বিসমিল্লাহ্ দু'বার আছে ?
উঃ সূরা নমলে (প্রথমে একবার, ৩১ নং আয়াতে আরেক বার)।
প্রঃ কুরআন করীমে আঁ হযরত (সাঃ)-এর নাম (মুহাম্মদ ) কতবার উল্লেখ করা হয়েছে? উদাহরণ দিন।
উঃ চারবার। যেমন- সূরা আলে ইমরানঃ ১৪৫, সূরা মুহাম্মদঃ ৩, সূরা আহযাব : ৪১ এবং সূরা ফাত্হঃ ৩০ আয়াত গুলোতে।
প্রঃ আঁ হযরত (সাঃ) খাতামান নাবীঈন এবং 'রাহমাতুল্লিল আলামীন' হওয়ার উল্লেখ কোন্ সূরা এবং কোন্ আয়াতে করা হযেছে ?
উঃ খাতামান্ নাবীঈনঃ সূরা আহযাবের ৪১ আয়াত
(মা কানা মুহাম্মাদুন আবা আহাদিম মির রিজালিকুম ওয়ালাকির রাসূলাল্লাহি ওয়া খাতামান্নাবীয়্যীন)
অর্থঃ হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) তোমাদের পুরুষদের (বয়ঃপ্রাপ্ত ) কারো পিতা নন কিন্তু তিনি আল্লাহ্র রসূল এবং খাতামুন্ নাবীঈন (নবীদের মোহর)। রহমাতল্লিল আলামীন : সূরা আম্বিয়ার ১০৮ আয়াতে
(ওয়ামা আরসালনাকা ইল্লা রাহ্মাতাল্লিল আলামীন)
অর্থঃ আমরা তোমাকে বিশ্ববাসীর জন্য কেবল রহমতস্বরূপই প্রেরণ করেছি।
প্রঃ লায়লাতুল কদর বলতে কি বুঝেন ?
উঃ লায়লাতুল কদর হলো সেই পবিত্র রাত যে রাতে কুরআন করীম নাযেল হওয়া আরম্ভ হয় এবং যার মাহাত্ম্য বর্ণনায় আল্লাহ্তাআলা বলেছেন,
(লায়লাতুল কাদ্রে খায়রুম্ মিন আলফে শাহরিন)
অর্থঃ লাইলাতুল কদর হাজার মাস হতেও উত্তম।
(খায়র-উত্তম, মিন-হতে, আল্ফ-হাজার, শাহরুন-মাস)।
আঁ হযরত (সাঃ) রমযানের শেষ দশ দিনের বেজোর রাতগুলোর মাঝে একে অন্বেষণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। এ রাতে খোদাতাআলা তাঁর বান্দার অনেক কাছে চলে আসেন এবং তাদের দোয়াসমূহকে কবুলিয়তের মর্যাদা দান করেন। হযরত মসীহ মাওউদ (আঃ) বলেছেন, যে অন্ধকারাচ্ছন্ন যুগে আল্লাহ্তাআলার প্রত্যাদিষ্ট পুরুষের আগমন হয় সে যুগকেও লায়লাতুল কদর বলা হয়।
প্রঃ কুরআন করীম কত দিনে নাযিল হয়েছে?
উঃ প্রায় ২৩ বছরে (প্রায় ৭,৯৭০ দিনে)।
প্রঃ কুরআন করীমে যে সব ফলের কথা বর্ণিত আছে সেগুলোর নাম লিখুন।
উঃ রুম্মান (ডালিম ), ইনাব (আঙ্গুর), তীন (ডুমুর), তালহুন (কলা), যায়তুন (জলপাই), নাখলুন (খেজুর)।
প্রঃ কুরআন করীমে উল্লেখিত কিছু পশুর নাম?
উঃ জামালুন (উট), গানামুন (বকরী), জাননুন (দুম্বা/ভেরা), বাকারাতুন (গাভী), কালবুন (কুকুর), খিনজির (শূকর), খাইলুন (ঘোড়া), বিগালুন (খচ্চর), হিমারুন (গাধা) ফিলুন (হাতি), কাসওয়ারাতুন (বাঘ)।
প্রঃ কুরআন করীমে বর্ণিত কতিপয় জাতির নাম লিখুন।
উঃ হযরত নূহ (আঃ)-এর জাতি [আর্মেনিয়ায় বসবাস করত], আদ জাতি [হযরত হূদ (আঃ)-এর জাতি], সামূদ জাতি [হযরত সালেহ (আঃ) এর জাতি], আসহাবিল বাস, [সামূদ জাতির একটি শাখা], আসহাবিল আইকাহ [হযরত শুয়াইব (আঃ)-এর জাতি], হযরত লূত (আঃ)-এর জাতি, ফিরআউনের জাতি [হযরত মূসা (আঃ) এবং বনী ইসরাঈলের ওপর যারা অত্যাচার করেছিলো], আসহাবিল ফীল [ইয়েমেনের লোক যারা হস্তী বাহিনী নিয়ে খানা কা'বাকে ধ্বংস করতে এসেছিল]।
প্রঃ কুরআন করীমের একজন প্রাচীন তফসরীকারকের নাম লিখুন।
উঃ তফসীরে কবীরের প্রণেতা আল্লামা ইমাম ফখরুদ্দীন রাযী (রহঃ)
প্রঃ 'বায়াতে রিযওয়ান' কি? কুরআন করীমের কোন্ সূরায় এর উল্লেখ করা হয়েছে?
উঃ হুদায়বিয়ার সন্ধির খুব সংকটাপন্ন অবস্থায় প্রায় ১৫০০ সাহাবী সর্বপ্রকার কুরবানী করার জন্য আঁ হযরত (সাঃ)-এর হাতে যে বয়াত করেন, তা-ই বায়াতে রিযওয়ান নামে পরিচিত। এটা সেই বয়াত যদ্বারা মুসলমানরা খোদাতাআলার পরম সন্তুষ্টি লাভের সৌভাগ্য অর্জন করেছিলেন। সূরা ফাতাহ্-এর ১১-১৯ আয়াতে এ সম্বন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রঃ নাযেল হওয়ার দিক হতে কুরআন করীমের সর্বপ্রথম ও সর্বশেষ আয়াত দু'টি কি কি ?
উঃ কুরআন করীমের সর্বপ্রথম অবতীর্ণ আয়াত :
(ইক্ব্রা বিস্মি রাব্বিকাল্লাযী খালাক্ব্)
অর্থঃ পাঠ করো তোমার প্রভু-প্রতিপালকের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন। (সূরা আলাক্ব : ২)
(ইক্ব্রা-তুমি পাঠ করো, বিসমি-নামে (নামের সাথে), রাব্বিকা-তোমার প্রভু, আল্লাযী-যিনি, খালাক্ব্-সৃষ্টি করেছেন)
কুরআন করীমের সর্বশেষ অবতীর্ণ আয়াত :
সর্বশেষ অবতীর্ণ আয়াত সম্বন্ধে বিভিন্ন বর্ণনা আছে; সাধারণভাবে অধিকাংশের মতানুসারে নিম্নের আয়াতকে সর্বশেষ আয়াত বলা হয়-
(আল্ ইয়াওমা আকমালতু লাকুম দীনাকুম ওয়া আত্মামতু 'আলায়কুম নি'মাতি ওয়া রাযীতু লাকুমুল ইসলামা দীনা)
অর্থ :
আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম এবং তোমাদের ওপর আমার নেয়ামতকে (অনুগ্রহকে) সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দীনরূপে মনোনীত করলাম (সূরা মায়েদা : ৪)।
(আল ইয়াওমা-আজ/এদিনে, আকমালতু-পরিপূর্ণ করে দিলাম, লাকুম-তোমাদের জন্য, দিনাকুম-তোমাদের ধর্ম, ওয়া আতমাম্তু-এবং পরিপূর্ণ করে দিলাম, 'আলায়কুম-তোমাদের জন্য, রাযীতু-পসন্দ বা মনোনীত করলাম)
একটি বিখ্যাত বর্ণনায় নিম্নের আয়াতকে সর্বশেষ আয়াত বলা হয়েছে :
(ওয়াত্তাকূ ইয়াওমান তুরজা'উনা ফীহি ইলাল্লাহ্)
অর্থঃ এবং তোমরা সেই দিনকে ভয় করো যেদিন তোমাদেরকে আল্লাহ্র দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে (সূরা বাকারা : ২৮২)।
(ওয়াত্তাকূ-এবং তোমরা ভয় করো, ইয়াওমান-সেই দিন, তুরজা'উনা-তোমাদেরকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে, ইলা-দিকে)
প্রঃ ক. খতমে নবুওয়তের আশীষ ও কল্যাণ, খ. ওফাতে মসীহ্ (আঃ) এবং গ. সাদাকাতে মসীহ মাওউদ (আঃ)-এর স্বপক্ষে কুরআন মজীদ হতে একটি করে উদ্ধৃতি দিন ?
উঃ ক) খতমে নবুওয়তের আশীষ ও কল্যাণ :
(ওয়ামাইয়্যুতি'ইল্লাহা ওয়াররসূলা, ফাউলাইকা মা'আল্লাযীনা আন্ 'আমাল্লাহু'আলায়হিম মিনান নাবীয়্যীনা ওয়াস্ সিদ্দীকীনা ওয়াশ্ শুহাদায়ি ওয়াস্সলেহীন)
অর্থঃ এবং যারা আল্লাহ্ এবং এ রসূলের আনুগত্য করবে তারা যেসব লোকদের মাঝে শামিল হবে যাদেরকে আল্লাহ্ পুরস্কার দান করেছেন- নবী, সিদ্দীক, শহীদ এবং সালেহগণের মাঝে (সূরা নিসা : ৭০)।
(ওয়া-এবং, মান-যারা, ইউতি'ই-আনুগত্য করবে, ফাউলাইকা মাআল্লাযীনা-তারা সেসব লোকদের মাঝে শামিল হবে যাদেরকে, আন'আমাল্লাহ-আল্লাহ্ পুরস্কার দান করেছেন, 'আলায়হিম-তাদের ওপর সালেহ্-সৎকর্মশীল)
খ) ওফাতে মসীহ্ (আঃ):
কিয়ামতের দিন যখন আল্লাহ্তাআলা হযরত ঈসা (আঃ)-কে তাঁর অনুসারীদের পদস্খলন সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করবেন তখন হযরত ঈসা (আঃ) বলবেন :
(ওয়া কুনতু 'আলায়হিম শাহীদাম্মা-দুমতু ফীহিম; ফালাম্মা তাওয়াফ্ফায়তানী কুন্তা আনর্তারক্বীবা 'আলায়হিম)
অর্থ :
এবং আমি যতদিন তাদের মাঝে ছিলাম আমি তাদের ওপর সাক্ষী ছিলাম কিন্তু যখন তুমি আমাকে মৃত্যু দিলে তখন তুমিই তাদের ওপর তত্ত্বাবধায়ক ছিলে (সূরা মায়েদা : ১১৮)।
(ওয়া-এবং, শহীদ-সাক্ষী, 'আলায়হিম-তাদের ওপর, কুন্তু-আমি ছিলাম মা-দুমতো-যতদিন ছিলাম, ফীহিম-তাদের মাঝে, ফালাম্মা-অতঃপর যখন, তাওয়াফ্ফায়তানী-তুমি আমাকে মৃত্যু দিলে, আন্তা-তুমি, রক্বীবা-তত্ত্বাবধায়ক)
গ) সাদাকাতে মসীহ মাওউদ (আঃ) প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনে বর্ণিত আছে :
(ফাক্বাদ লাবিসতু ফীকুম উমুরাম্ মিনক্বাবলিহী আফালা তা'ক্বিলূন)
অর্থঃ নিশ্চয় আমি ইতোপূর্বে তোমাদের মাঝে এক সুদীর্ঘ জীবন যাপন করেছি, তবুও কি তোমরা বিবেক-বুদ্ধি খাটাবে না ? (সূরা ইউনুস : ১৭)। তেমনি হযরত মসীহ মাওউদ (আঃ)-ও তাঁর বিরুদ্ধবাদীদের কে চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেছেন : "কে আছে আমার জীবনে কোন দোষ খুঁজে পায়?"

No comments