অর্থের যথেষ্ট অপচয় ঘটায় এমন ২৮টি খাতের তালিকা


অর্থের যথেষ্ট অপচয় ঘটায় এমন ২৮টি খাতের তালিকা

জীবনে প্রয়োজনের শেষ নেই। আমাদের সব প্রয়োজনই মেটাতে হয়। আর এ জন্য অর্থ খরচের বিষয়ে সচেতন হওয়াটা জরুরি। প্রতিনিয়ত সচেতনভাবে বা সচেতন না থেকেও আমরা নানা খাতে অর্থের অপচয় করি। সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞরা এখানে ২৮টি খাত তুলে ধরেছেন যাতে আপনার অর্থ পুরোটাই জলে যায় বলে ধরে নেওয়া যায়।

১. সিগারেট অর্থ অপচয়ের একটি বড় খাত। প্রতিদিন যদি ৫০ টাকা খরচ করেন তবে ১৫ বছরে আপনি কত টাকা খরচ করলেন হিসেব করে দেখুন। যারা প্রচুর ধূমপান করেন তবে অর্থের পরিমাণ এমন সংখ্যায় দাঁড়াবে যা চিন্তাও করতে পারবেন না।

২. আমরা প্রচুর পরিমাণে ভালো খাবার নষ্ট করি। ন্যাচারাল রিসোর্সেস ডিফেন্স কাউন্সিল-এর একটি রিপোর্ট বলছে, আমেরিকানরা গড়ে ২৫ শতাংশ খাবার ও পানীয় ফেলে দেন বা নষ্ট করেন। যে পরিমাণ খাবার ফেলে দেওয়া হয় তা কিনতে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হয় যার পুরোটাই জলে।

৩. ব্যাংকের নানা ধরনের ফি দেওয়াটা অর্থের বড় অপচয়। এটি দিতে হয় সচেতনভাবে ব্যাংকের সঙ্গে লেনদেন না করার কারণে। এর মধ্যে রয়েছে ওভারড্রাফট ফি, থার্ড-পার্টি এটিএম ফি ইত্যাদি।

৪. এনার্জি বৃদ্ধিকারক পানীয় বা ফ্যাট কমানোর ওষুধ ইত্যাদি অর্থের বড় ধরনের অপচয়।

৫. শীত বা গরমের দেশে বাড়ির তাপমাত্রা সুষ্ঠুভাবে বজায় রাখতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন পড়ে যা বেশ ব্যয়বহুল। অথচ বাড়ি বানানোর সময় সঠিক পদ্ধতিতে বানালে এ সমস্যা অনেকটা দূর হয়।

৬. শিক্ষার্থীদের ক্লাস না করা বা সেমিস্টার ফাঁকি দেওয়া বড় ধরনের অর্থের অপচয়।

৭. পথে যেতে যেতে খুচরা কেনাকাটায় অনেক পয়সা নষ্ট হয়। এমন জিনিস যা বাড়িতে আছে বা নিয়মিত প্রয়োজন হয় তা পাইকারি দোকান থেকে অনেক কম দামে কেনা যায়।

৮. লটারির টিকিট কেনাতে অর্থের ব্যাপক অপচয় হতে পারে যদি আপনি নিয়মিত লটারি টিকিটের ক্রেতা হন। কারণ এতে নম্বর মিলে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শূন্য।

৯. বাড়িতে সহজেই বানানো যায় এমন জিনিস বাইরে থেকে কিনে খাওয়ায় বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়। কেনার চেয়ে বাড়িতে বানাতে অনেক কম অর্থ ব্যয় হয়।

১০. অলসতাও পরোক্ষভাবে অর্থ অপচয়ের কারণ হতে পারে। ব্যাংক ঋণ বিশেষ করে ক্রেডিট কার্ডের ক্ষেত্রে অলসতার কারণে সময়মতো অর্থ জমা না করার কারণে আপনাকে সুদ দিতে হবে যা বড় ধরনের অপচয়।

১১. অনেকের মতে, অলসতা আরো একটি দিক থেকে অপচয় বলে বিবেচিত হতে পারে। কারণ কুঁড়েমি কিছু আনে না।

১২. বাইরে খেতে যাওয়া মজার বিষয়। কিন্তু নিয়মিত বাইরে না খেতে গিয়ে বাড়িতে খাবার তৈরি এবং বাইরে থেকে কিনে আনার মিশ্রণ ঘটালে বেশ কিছু টাকা বাঁচে।

১৩. বাড়ি থেকে একটি বোতলে পানি নেওয়ার সুযোগ থাকতে দোকান থেকে পানির বোতল কেনা অর্থের অপচয় ছাড়া কিছুই নয়।

১৪. ইন্টারনেটের ব্যবস্থা থাকলে ডিশের লাইন ব্যবহার করে টেলিভিশন দেখা অর্থের অপচয়।

১৫. চাকরিরত অবস্থায় অবসরের জন্য অর্থ জমানোর সুযোগ থাকলে তা অবশ্যই গ্রহণ করা উচিত। কারণ অবসরের পর যে অর্থ আপনি পাবেন তার পুরোটাই লাভ।

১৬. বর্তমান গাড়িটির মূল্য পরিশোধ না করা হলে নতুন গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। কারণ নতুন গাড়ি কিনতে গেলে পুরনোটির কারণে বেশি অর্থ খরচ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

১৭. ঋণের বিপরীতে কিস্তি কোনো অবস্থাতেই বাদ দিবেন না। এতে সুদের পরিমাণ বাড়তেই থাকবে এবং বাড়তি টাকাটাই অপচয় হবে।

১৮. সব পণ্য ব্র্যান্ডের কিনতে হবে এমন কথা নেই। অনেক কিছুই রয়েছে যা ব্র্যান্ড দেখে কেনাটা রীতিমতো বোকামি।

১৯. বিয়ের অনুষ্ঠানে অর্থের অপচয় যথেষ্ট হয়। সামাজিক এই ক্রিয়ার আয়োজন প্রয়োজন অনুযায়ী করা উচিত। কিন্তু অতিরঞ্জিত করে ব্যাপক অপচয় ঘটানো হয়।

২০. এইচডিএমআই কেবল অনলাইনে অনেক কমদামে পাওয়া যায়। খরচ বাঁচাতে তাই এখান থেকে কেনা উচিত।

২১. প্রতিদিন দুই বেলা করে মাত্র তিন মিনিটের দাঁত মাজা ভবিষ্যতে অনেক অর্থ বাঁচিয়ে দিতে পারে।

২২. মোবাইল বা কম্পিটারের জন্য ইন্টারনেট ব্যবহারে মিতব্যয়ী না হলে অনেক অর্থ নষ্ট হতে পারে।

২৩. পুরনো যে জিনিসটি এখনো দিব্যি কাজ করছে, তা বাদ দিয়ে নতুন একই জিনিস কেনা কী অর্থের অপচয় নয়?

২৪. হীরের প্রতি নেশা বিপুল অর্থের অপচয় ঘটাবে। কারণ খাঁটি হীরে সবাই চিনতে পারেন না। তাই অনেক সময় ভেজাল হীরে কিনে অর্থের অপচয় হয়।

২৫. যে কাজ নিজেই করতে পারেন, তা করতে কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে সেবা নেওয়া অর্থের অপচয়।

২৬. নতুন গাড়ি যদি একান্ত প্রয়োজন না হয়, তবে এত টাকা জলাঞ্জলি দেওয়া মোটেও উচিত নয়।

২৭. খুচরো পয়সা ঝামেলা মনে করে এখানে-সেখানে ফেলে দিলে সব মিলিয়ে অনেক পয়সা নষ্ট হয়।

২৮. গ্র্যাজুয়েশন না করলে শিক্ষাজীবন শেষে যথেষ্ট অর্থ উপার্জন অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাই স্কুল পর্যন্ত পড়ে কর্মজীবনে প্রবেশ করলে কোনো লাভ হয় না। বরং এতে স্কুল পর্যন্ত পড়ার খরচটাই নষ্ট হয়।
সূত্র : বিজনেস ইনসাইডার


No comments

Powered by Blogger.