চাকরিপ্রার্থীদের যে আটটি মিথ্যা বলে প্রতিষ্ঠানগুলো
চাকরিপ্রার্থীদের যে আটটি মিথ্যা বলে প্রতিষ্ঠানগুলো
কোনো চাকরির আবেদন করার পর চাকরিপ্রার্থীদের নানা বিষয় অবহিত করেন নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা। মৌখিক বা লিখিত যেভাবেই দেওয়া হোক, এসব তথ্যের সব সত্য নয়। এগুলোর মধ্যে কিছু থাকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, কিছু আবার প্রার্থীদের ভুল ধারণা দেয়। বিজনেস ইনসাইডারে এ ধরনের আটটি মিথ্যা নিয়ে নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। মনে রাখতে হবে, এ তথ্যগুলো সব সময় মিথ্যা নয়, কখনো কখনো এগুলো সত্যও হয়।
১. আপনার সিভি ফাইলে রাখলাম :
প্রায়ই নিয়োগদাতারা বলেন, আপনাকে এখন চাকরি দেওয়া সম্ভব হলো না, কিন্তু সিভিটা ফাইলে থাকল। পরে আপনার কথা বিবেচনা করা হবে। কখনো চাকরি প্রত্যাখ্যান করে পাঠানো চিঠিতেও এ কথা লেখা থাকে। চাকরিপ্রার্থীরা এ থেকে ধারণা করতে পারেন, তাঁর বিস্তারিত তথ্য প্রতিষ্ঠানটি তথ্যভাণ্ডারে রেখে দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে হয়তো তাঁর মতো কর্মী দরকার হলে ডাকতে পারে। বাস্তবে এসব সিভি সংরক্ষণ হয় না, করা হলেও দ্বিতীয়বার খোলার সম্ভাবনা খুব কম।
২. ভবিষ্যতে সুযোগ এলে আমরা আপনাকে জানাব :
আপনি যদি কোনো পদে খুব যোগ্য প্রার্থী হন, কিন্তু চাকরিটা কোনো কারণে না পান, তাহলে চাকরিদাতারা আপনাকে এমন কথা জানাতে পারেন। বেশির ভাগ সময় চাকরিপ্রার্থীদের ভবিষ্যৎ সুযোগ সম্বন্ধে জানানো হবে বললেও বাস্তবে কাউকে জানানো হয় না। চাকরিদাতারা হাজার হাজার, কখনো লক্ষাধিক ব্যক্তিকে এমন কথা জানিয়ে থাকেন। কিন্তু বাস্তবে তাঁদের পক্ষে এত মানুষকে তথ্য জানানো সম্ভব হয় না। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটির নতুন কোনো চাকরির বিজ্ঞাপন এলে সেখানে আগে দেওয়া সিভির কথা উল্লেখ না করে নতুন করে আবেদন করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
৩. দুই সপ্তাহের মধ্যে আপনাকে জানানো হবে :
অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বেশির ভাগ চাকরিপ্রার্থীই জানেন, চাকরিদাতাদের দেওয়া সময়সীমা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ভুল হয়। আপনাকে দুই সপ্তাহের মধ্যে কিছু একটা জানানো হবে, এ কথাও অনেক সময় ভুল। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে চাকরিদাতারা দ্রুত তাঁদের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেন। আর যদি তাঁরা কিছু না জানান, তাহলে সেই অপেক্ষায় থাকা ভুল। এ কারণে দুই সপ্তাহের কথাটার বাস্তব অর্থ দাঁড়ায়, 'আমরা আপনার বিষয়টি দেখছি। আপনাকে পছন্দ করা হলে খবর দেওয়া হবে। তবে আপনি এ পদের জন্য উপযুক্ত বিবেচিত না হলে আর কোনো খবর পাবেন না।'
৪. আপনাকে 'হ্যাঁ' বা 'না' একটা কিছু শিগগিরই জানিয়ে দেব :
নিয়োগদাতারা প্রায়ই এ কথা বলেন। বাস্তবে তাঁরা এ কথা রক্ষা করেন না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে হ্যাঁ হলেই তাঁরা সেই খবর জানান। অন্যথায় চাকরিপ্রার্থীরা কয়েক সপ্তাহ অপেক্ষা করে আশা ছেড়ে দেন।
৫. আপনাকে দেখে অভিভূত হয়েছি, কিন্তু আমাদের আরো যোগ্য প্রার্থী ছিল :
অনেক সময় ইন্টারভিউর পর চাকরিপ্রার্থীকে দেওয়া চিঠিতে এমন কথা লেখা হয়। তবে ইন্টারভিউতে তাঁরা বাস্তবে 'অভিভূত' হয়েছেন কি না, সে বিষয়টা এখানে বিবেচনা করা হয় না। কারণ সব চাকরিপ্রার্থীকেই তাঁরা এমন কথা লিখে দেন। তাই চাকরিপ্রার্থীদের উচিত এসব চিঠির মূল বক্তব্য ছাড়া বাকি অংশ নিয়ে মাথা না ঘামানো।
৬. এখানকার পরিবেশ খুবই চমৎকার :
চাকরিদাতারা প্রায়ই বলে থাকেন, তাঁদের প্রতিষ্ঠানে চমৎকার পরিবেশ রয়েছে। বাস্তবে প্রায়ই ব্যতিক্রম দেখা যায়। আপনি যদি প্রশ্ন করেন আপনারা কি ফ্লেক্সিবল কর্মঘণ্টা গ্রহণ করেন? আপনারা কি বাসা থেকে কাজ করার সুযোগ দেন? আপনারা কি পেশাদারি উন্নয়নের সুযোগ দেন? প্রতিষ্ঠানের বেতন কি ভালো দেওয়া হয়? প্রতিষ্ঠান থেকে লোকজন কেন চাকরি ছেড়ে দিচ্ছেন? প্রতিষ্ঠানের ভেতরে কি রাজনীতি চলে? এসব কথার উত্তর দিতে গেলেই প্রতিষ্ঠানের কাজের পরিবেশ কেমন তা নিশ্চিত হতে পারবেন। তবে এসব জবাব তাঁদের কাছ থেকে পাবেন না, এ জন্য আপনাকে নিজে নিজেই গবেষণা করতে হবে।
৭. খুব ভালো বেনিফিট দিই :
প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায়ই দাবি করে, তারা খুবই ভালো বেনিফিট প্রদান করে। অনেক ক্ষেত্রে এ কথা ঠিক হলেও বাস্তবে দেখা যায় প্রতিষ্ঠানের বেতন কাঠামো ভালো নয়। অধিকন্তু অনেক প্রতিষ্ঠান কাগজপত্রে ছুটির সময় উল্লেখ করলেও বাস্তবে সেটার দেখা পাওয়া যায় না।
৮. আরো অভিজ্ঞ চাকরিপ্রার্থী পাওয়া গেছে :
প্রায়ই চাকরিদাতারা কাউকে চাকরি প্রত্যাখ্যানের বিষয়ে এমন কথা জানান যে, তাঁর চেয়ে আরো অভিজ্ঞ একজনকে বেছে নিয়েছেন তাঁরা। তবে বাস্তবে যে কারণেই হোক না কেন, তিনি চাকরি পাননি এটিই মূল কথা। হয়তো আপনার চাকরি না হওয়ার কারণ ছিল ভিন্ন বিষয়। তাঁরা চিঠিতে লিখতে পারেন না যে, 'আমরা আপনার ব্যক্তিত্ব পছন্দ করছি না,' কিংবা 'আপনি ইন্টারভিউতে অতিরিক্ত কথা বলেছেন বলে চাকরিটা হারালেন।'

No comments