জীবনসংগিনী সম্পর্কে ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (রহ) এর ছেলেকে দেয়া নসীহত

জীবনসংগিনী সম্পর্কে ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল
(রহ) এর ছেলেকে দেয়া নসীহত:
.
◗ নারীরা সাধারণত রোমান্টিকতা পছন্দ করে। খুনসুটি
- রসিকতা পছন্দ করে। নখরা - ন্যাকা তাদের
স্বভাবগত। তারা ভালবাসার স্পষ্ট প্রকাশকে খুবই পছন্দ
করে। তুমি একান্তে স্ত্রীর কাছে এসব কথা
প্রকাশে কখনোই কার্পণ্য করবেনা। তাকে বেশি
বেশি ভালোবাসার কথা বলবে। যদি এসবে কার্পণ্য
কর, তাহলে দেখবে কিছুদিন পরই তোমার আর তার
মাঝে একটা অদৃশ্য পর্দা ঝুলে গেছে। এরপর
দিনদিন পরস্পরের সম্পর্কে শুষ্কতা আসতে শুরু
করবে। ভালবাসা জানলা দিয়ে পালাবার পথ খুঁজবে।
.
◗ নারীরা কঠোর - কর্কশ- রূঢ়- বদমেজাজি -
রুক্ষস্বভাবের পুরুষকে একদম পছন্দ করেনা।
তোমার মধ্যে এমন কিছু থাকলে এখুনি ঝেড়ে
ফেল। কারণ তারা সুশীল, ভদ্র, উদার পুরুষ পছন্দ
করে। তুমি তার ভালবাসা অর্জনের জন্য, তাকে
আশ্বস্ত করার জন্য হলেও গুণগুলো অর্জন কর।
.
◗ এটা খুব ভালো করে মনে রাখবে, তুমি তোমার
স্ত্রীকে যেমন পরিচ্ছন্ন, সুন্দর, পরিপাটি,
গোছালো, সুরুচিপূর্ণ, সুগন্ধিময় দেখতে চাও,
তোমার স্ত্রীও কিন্তু তোমাকে ঠিক তেমনটাই
চায়। তাই সাবধান থাকবে, তার চাহিদা পূরণে যেন
কোন অবস্থাতেই তোমার পক্ষ থেকে
বিন্দুমাত্র অবহেলা না হয়।
.
◗ ঘর হল নারীদের রাজ্য। একজন নারী নিজেকে
সবসময় সেই রাজ্যের সিংহাসনে আসীন দেখতে
খুবই পছন্দ করে। সে কল্পনায়, স্বপ্নে, বাস্তবে
এই রাজ্য নিয়ে ভাবে। সাজায়, রচনা করে। খুবই
সাবধান থাকবে। কখনোই তোমার স্ত্রীর এই
সুখময় রাজত্বকে ভেংগে দিতে যেও না। এমনকি
তাকে সিংহাসন থেকে নামিয়ে দেয়ার প্রয়াশও
চালাবেনা। তুমি তো জানোই, আল্লাহ্ তা'আলার
কাছে সবচেয়ে অপছন্দজনক বিষয় কী?
.
- তাঁর সাথে কোনকিছু শরীক করা।
- হ্যাঁ, ঠিক বলেছো। একজন রাজার কাছেও
সবচেয়ে ঘৃণিত বিষয় কী?
- তার রাজ্যে অন্য কেউ হস্তক্ষেপ করা।
.
◗ নারীরা তার স্বামীকে মনে প্রাণে,
সর্বান্ত:করণে প্রবলভবে স্বামীকে পেতে
চায়। তবে পাশাপাশি বাপের বাড়িকেও হারাতে চায় না।
হুঁশিয়ার থেকো বাবা! তুমি ভুলেও নিজেকে আর
স্ত্রীর পরিবারকে এক পাল্লায় তুলে মাপতে শুরু
করে দিওনা। তুমি এ অন্যায় দাবী করে বসো না 'হয়
আমাকে বেছে নাও, নাহলে তোমার বাবা-মাকে।
তুমি এই বিষয়টা চিন্তাতেও স্থান দিও না। তুমি তাকে
এমনটা করতে বাধ্য করলে সে হয়তো চাপে
পড়ে মেনে নিবে। কিন্তু তার মনের গহীনে
কোথাও একটা চাপা বোবা কান্না গুমরে মরতে
থাকবে। তোমার প্রতি এক ধরনের সুপ্ত অশ্রদ্ধা
তার কোমল মনে জেগে উঠবে।
◗ তুমি জানো, অনেক শুনেছো এবং পড়েছো
নারীকে সৃষ্টি করা হয়েছে বাহু (বা পাজরের) বাঁকা
হাড় থেকে। এই বক্রতা কিন্তু তার দোষ নয়,
সৌন্দর্য । তুমি চোখের ভ্রু লক্ষ করে দেখেছ?
সেটার সৌন্দর্যটা কোথায়?
.
- বক্রতায়
- একদম ঠিক কথা। বক্রতাই ভ্রুকে সুন্দর করে
তোলে। ভ্রুটা যদি সোজা হত, দেখতে সুন্দর
লাগতো না। যদি তোমার স্ত্রী কোন ভুল করে
ফেলে, অস্থির হয়ে রেগেমেগে হামলা করে
বসোনা। উত্তেজিত অবস্থায় তাকে সোজা
করতে যেওনা, তাহলে অতিরিক্ত চাপে ভেঙে
যাবে। আর ভাঙা মানে বুঝোই তো, তালাক।
আবার সে অনবরত ভুল করে যেতে থাকলে
ভেঙে যাওয়ার ভয়ে কিছু না বলে লাগামহীন
ছেড়েও দিওনা। তাহলে বক্রতা যে আরো
বেড়ে যাবে। নিজের ভেতরে গুটিয়ে যাবে।
তোমার প্রতি আচরণ উদ্ধত হয়ে যাবে। তোমার
কথায় কান দিবেনা।
.
- তাহলে কী করব?
- মাঝামাঝি অবস্থানে থাকবে।
.
◗ তুমি ঐ হাদিসটা পড়ো নি?
- কোনটা?
- ঐ যে, যার ভাবার্থ হল, নারীদের সৃষ্টি করা
হয়েছে এমনভাবে যে, তারা স্বামীর প্রতি
অকৃতজ্ঞ হয়। তার প্রতি অতীতে কৃত সব
সদ্ব্যবহার-সদাচার ভুলে যায়। তুমি যদি তার প্রতি যুগ-
যুগান্তরও সুন্দর আচরণ কর, হঠাৎ একদিন
কোনক্রমে একটু রূঢ় আচরণ করে ফেলেছ,
ব্যাস অমনিইই সে নাকের জল চোখের জল এক
করে ফেলবে - আমি তোমার কাছে কখনোই
ভালো কিছু পাইনি।
.
দেখো বাছা! তার এই আচরণে রুষ্ট হয়োনা। তার
এই চপল স্বভাবের প্রতিক্রিয়ায় তার প্রতি বিতৃষ্ণা
এনো না। তার এই স্বভাবকে তুমি অপছন্দ করলেও,
তার মধ্যে এমন অনেক কিছু পাবে, যা তুমি শুধু
পছন্দই করোনা, বরং জানও লড়িয়ে দিতে পারো।
.
◗ নারীদের শরীর মনের অবস্থা সবসময় একরকম
থাকে না। প্রতি মাসে নির্দিষ্ট একটা সময় তাদের
শারীরিক দুর্বলতা থাকে। অনেকসময় মানসিক
অস্থিরতাও বিরাজ করে। তাদের এই দুর্বলতা, অসহায়
অবস্থার কথা বিবেচনা করে আল্লাহ্ তা'আলা তাদের
নির্দিষ্ট সময়ের নামাজ মআআফ করে দিয়েছেন।
রোযাকে পিছিয়ে দিয়েছন তার স্বাস্থ্য ও মেজাজ
ঠিক হওয়া পর্যন্ত। তুমিও তোমার স্ত্রীর দুর্বল
মুহুর্তগুলোতে তার প্রতি কোমল হবে।
.
◗ সবসময় মনে রেখো, তোমার স্ত্রী তোমার
কাছে অনেকটা দায়বদ্ধ। বিভিন্নভাবে তোমার
মুখাপেক্ষী। তোমার সুন্দর আচরণের কাঙাল। তুমি
তার প্রতি যত্নবান হবে। তার প্রতি অনেকবেশি
মনোযোগ দিবে। তাকে আপন করে নেবে।
তাহলে সে তোমার জন্য শ্রেষ্ঠ সম্পদে পরিণত
হবে। তাকে অনুপম সঙ্গী হিসেবে পাবে।
.
.
বই: দুজন দুজনার
লেখক: মুহাম্মাদ আতীক উল্লাহ

No comments

Powered by Blogger.