কর্মক্ষেত্রে পুরুষের পোশাক-পরিচ্ছদে সাতটি ভুল আপনিও করেন কি?

কর্মক্ষেত্রে পুরুষের পোশাক-পরিচ্ছদে সাতটি ভুল আপনিও করেন কি?

অফিসে পোশাকের মানানসই স্টাইল বজায় রাখা খুব কঠিন নয়। কিন্তু ঠিকভাবে নজর না দিলে এতে কিছু ভুল হয়ে যায়, যা অনেককেই বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে দেয়। জেনে নিন কর্মক্ষেত্রে পোশাকের স্টাইলে সাধারণ সাতটি ভুল সম্পর্কে। বিজনেস ইনসাইডার জানিয়েছে, ভুলগুলো এড়িয়ে চললে কর্মক্ষেত্রে আপনার পোশাক-পরিচ্ছদসহ সার্বিক স্টাইল হবে মানানসই। আপনার ব্যক্তিত্বকে প্রকাশ করতেও সহায়ক হবে এগুলো।

১. বেমানান জুতা
স্বাভাবিক আকারের জুতার বদলে অনেকেই ঝোঁকের বশে অস্বাভাবিক বা বেমানান আকারের জুতা কিনে ফেলেন। জুতা কেনার আগে ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তা করুন এর ডিজাইনটি কি স্বাভাবিক, নাকি অতিরিক্ত স্টাইলের। অতিরিক্ত স্টাইল আপনার নিজের কাছে ভালো লাগলেও অন্যদের ভালো নাও লাগতে পারে। বেমানান কিছু জুতা আছে যেগুলো পায়ের মতো নয়, বরং চারকোনা সাইজের। কিছু জুতা দেখা যায় পায়ের তুলনায় অনেক বড়। এগুলো বাদ দিয়ে সঠিক আকারের স্বাভাবিক ও মানানসই জুতা কিনুন।

২. অনেক বয়সেও টি-শার্ট পরা
টি-শার্ট নামে ক্যাজুয়াল পোশাকটি যেকোনো আবহাওয়াতেই আরামদায়কভাবে পরা যায়। এ ছাড়া এর সামনে আঁকা ছবি দিয়ে নিজের প্রিয় ব্যান্ড দল, ফুটবল দল কিংবা ভালোবাসার যেকোনো বিষয়কে অন্যদের কাছে প্রকাশ করা যায়। স্কুল থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পর্যন্ত এটি অত্যন্ত মানানসই। কিন্তু যখন আপনার বয়স ২৫ ছাড়িয়ে যাবে আর আপনি পেশাগত জীবনে প্রবেশ করবেন, তখন টি-শার্ট আর মানানসই থাকে না। পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় নয়, বরং খেলার মাঠে, পার্কে বা বাড়িতে পোশাকটি পরা যায়। আর অফিসে শার্টই মানানসই।

৩. শরীরের সঙ্গে বেমানান পোশাক
পেশাগত জীবনে পোশাক হওয়া প্রয়োজন শরীরের সঙ্গে পুরোপুরি ফিট। ঠিকঠাক ফিট হওয়া পোশাক আপনার ব্যক্তিত্ব সঠিকভাবে প্রকাশ করে। অন্যদিকে ঠিকভাবে ফিট না হওয়া পোশাক আপনাকে বাজেভাবে উপস্থাপন করবে। এটা ফ্যাশনের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও বটে।

৪. চামড়াজাত পণ্যের ভুল ম্যাচিং
বেল্ট ও জুতার মতো চামড়াজাত পণ্য পুরুষদের পরতে হয়, যা স্টাইলেরই অংশ। আর আপনার জুতা যদি হয় বাদামি, তাহলে কালো বেল্ট পরলে তা মোটেই মানানসই হবে না। এ জন্য জুতা ও বেল্টের মতো চামড়াজাত পণ্যগুলোর রং একই হওয়া উচিত। আপনার হাতে চামড়ার ব্রিফকেস, গ্লোভস কিংবা ঘড়ি থাকলে এর রংও যেন ম্যাচ করে, তা লক্ষ করতে হবে।

৫. খেলাধুলার জুতা অফিসে পরা
কেডসের মতো দৌড়ানোর উপযোগী জুতা কিংবা খেলার মাঠের জুতা সারাক্ষণ পরে থাকতে অনেকেই পছন্দ করেন। কিন্তু এগুলো পরার নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য আছে। যেমন, দৌড়ানোর জুতার সুখতলা এমন থাকে যেন দৌড়ানোর সময় তা পিছলে না যায়। আবার ফুটবল মাঠের উপযোগী জুতায় এমন ব্যবস্থা থাকে যেন ঘাসের মাঠে স্বাচ্ছন্দ্যে দৌড়ানো যায়। এগুলো অফিসে মোটেই মানানসই নয়। অফিসের জন্য মানানসই জুতাই অফিসে পরা উচিত।

৬. জিন্স সবখানে
জিন্স খুবই আরামদায়ক আর প্রায় সবখানে পরা যায়। কিন্তু অফিসের গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত একজন ব্যক্তি সারাক্ষণ জিন্স পরে ঘোরাঘুরি করেন এমন দৃশ্য অনেক সময় মানানসই হয় না। এর বদলে অন্য কাপড়ের পোশাক পরাই ভালো। আপনার যদি নির্দিষ্ট কোনো রং পছন্দ না হয়, তাহলে অন্য রঙের পোশাক দেখুন। একটু খুঁজলেই কালো, নেভি ব্লু, চকোলেট কিংবা এ ধরনের বহু রঙের পোশাক পাবেন।

৭. সচেতনতার অভাব
স্টাইল মানে শুধু পোশাকই নয়, এর সঙ্গে জড়িত থাকে আপনার সচেতনতাও। এ জন্য প্রয়োজন সঠিকভাবে শার্ট, প্যান্ট, জুতা ইত্যাদি পরা। বেছে নেওয়ার সময় বিচক্ষণতা দেখাতে হবে। এর পাশাপাশি আপনাকেও হতে হবে সচেতন। এ জন্য আপনার স্টাইল বিষয়ে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। কোনো পোশাক কেনার বা পরার আগে চিন্তা করে নিতে হবে পোশাকটিতে আপনাকে কতটা মানাবে।


No comments

Powered by Blogger.